|||

বিদ্যালয়ের ইতিহাস:-

মরমী কবি পাগলা কানাই ও স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর সৈনিক বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ হামিদুর রহমান এর জন্মস্থান ঝিনাইদহ জেলায়। এ জেলার মহেশপুর থানার পার্শ্বে অবস্থিত কপোতাক্ষের তীর ঘেষে মাথা উচু করে আপন মহিমায় দেদীপ্যামান যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেটি হলো মহেশপুর সরকারি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এর প্রতিষ্ঠার সাল ১৮৬৩ইং। জনশ্রুতি আছে তৎকালীন বৃটিশ শাসন আমলে ১২ জন প্রভাবশালী হিন্দু জমিদার বাস করতেন। তাঁদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছিল টোল কেন্দ্রিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সেখানে কেবল পন্ডিতেরা সংস্কৃত বিষয়ে পাঠদান করতেন। পরবর্তীতে কাল পরিক্রমায় মুসলিম জাগরণ ও আন্দোলনের ফলে বিদ্যালয়টি ইংরেজি বিদ্যালয়ে রুপান্তরিত হয়। এ বিদ্যালয় থেকে ১৮৮৩ ইং সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় প্রথম “মেট্রিকুলেশন” পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়। পরবর্তীতে এ এলাকার কৃতি সন্তান শিক্ষাবীদ জনাব মোঃ ওয়ালীউল ইসলাম, এম,এ (১৯৫৮-২০০২) এর তত্বাবধানে বিদ্যালয়টি জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদায় উন্নতি হয়। এর ধারাবাহিকতা চলছে।

প্রধান শিক্ষকের বাণী:-

মহেশপুর শহরের প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিবাহী এ বিদ্যালয় যেখানে চারিদিকে ছায়া সু্শীতল মনোমুগ্ধ পরিবেশে সুষ্ঠু সুন্দর শিক্ষা চর্চার অপূর্ব এক বিদ্যাপীঠ মহেশপুর সরকারি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় , ডাক ও উপজেলা-মহেশপুর, জেলা-ঝিনাইদহ। কালের বিবর্তন ধারায় যুক্ত হয়েছে বিজ্ঞানের অত্যাধুনিক তথ্য প্রযুক্তির বাহন কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট সংযোগ যা তরুন শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার পথ সুগম করে দিয়েছে। সম্প্রতি যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পৃষ্ঠপোষকতায় চালু হতে যাচ্ছে নিজস্ব ওযেব সাইট। প্রত্যাশার প্রান্তরে দাড়িয়ে প্রাপ্তির এই আনন্দে সবার সাথে আমি মুগ্ধ ও আন্দদিত।

আমাদের নতুন প্রজন্ম সামাজিক মূল্যবোধ অবক্ষয়ের মুখোমুখি দাড়িয়ে। আজ ন্যায়বোধ, কল্যাণবোধ, শুভচিন্তা, মানবিকতা নির্বাসিত। হাজারো দৈত্য প্রতিনিয়তই আমাদের কুরে কুরে খাচ্ছে। আমরা প্রতিদিন বিধ্বস্ত। কিন্তু একজন শিক্ষার্থী অমৃতের পুত্র। তার মৃত্যু নেই। সে জ্ঞান আহরণের মাধ্যমে সত্তার বিবর্তন ঘটায়, বিবেক-বিচারবোধ, সুবিবেচক পরিলক্ষিত হয়। তখন সত্য বিকশিত হয়। বিকশিত হয় মানবিক মূল্যবোধ। সে জন্য আমাদের তরুন শিক্ষার্থীদের নিয়ে বার বার অনুশীলনে সহায়তা করতে হবে। শিক্ষার্থীরা নতুন নতুন আবিষ্কার আর স্ব-জ্ঞানে নিজেদের পরিপূর্ণ করে মানব জাতিকে আলোকিত করুক এ প্রত্যাশা রাখতেই পারি।